প্রত্যাখ্যান অতঃপর আলোর পথে প্রত্যাবর্তন

আমার ডাকে যখন কেউ সাড়া দেয় না, আমি কেমন যেন হয়ে যাই। ঘুম আসে না, খেতে মন চায় না, উদাসীন বিহ্বল হয়ে বসে একলা আকাশ দেখি। কাউকে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়েও যখন সে উপেক্ষা করে, অন্য কারো প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়, তখন আমার ভেতরটা কেমন যেন শূন্যতায় ভরে উঠে। এক বুক ব্যথা নিয়ে আকাশের নিচে স্থির হয়ে বসে থাকি, নিজের অস্তিত্বটাই যেন চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে চায়।
কিন্তু, এমন মুহূর্তে হঠাৎ মনে হয়— আমার জন্য প্রতিদিন একজন অপেক্ষা করছেন, যে আমাকে অগাধ ভালোবাসেন, আমার কল্যাণ করার জন্য যিনি আরশে আজিমে বসে আছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুয়াজ্জিন তার দিকেই ডাকেন—
  • “হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ।”— নামাজের জন্য এসো, সাফল্যের জন্য এসো।
অথচ আমি সাড়া দেই না। তার ভালোবাসা আমার চেয়ে কত বিস্তৃত, কত অসীম—সেটা বুঝতে পারি না। আমি তার ডাকে সাড়া না দেওয়ায় তার হৃদয়ে কেমন লাগে, তার ভালোবাসার গভীরতা সামান্যও অনুভব করতে পারি না।
আমার এই সামান্য ভালোবাসা যখন আমাকে এমনভাবে চুরচুর করে ফেলে, তখন ভাবি, তার ভালোবাসা কতটা পবিত্র, কতটা শাশ্বত। পৃথিবীর সমস্ত ঐশ্বর্য যার নিয়ন্ত্রণে তার কাছে না চেয়ে নিজের অভাবগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকি, অভিযোগ করি। রোজ কতো কিছু পাইনি বলে আক্ষেপ করি, অথচ কখনো ভাবি না যে, প্রতিটি নিঃশ্বাস অবাধে নিচ্ছি, আলো-বাতাস উপভোগ করছি, আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুন্দরভাবে কাজ করছে—এসবই তার অবিরাম দয়ার প্রতিফলন।
আমরা যা নেই, তার জন্যই কেবল আফসোস করি, যা আছে তার সৌন্দর্য উপেক্ষা করি। আল্লাহ, আমাদের অন্তরে সঠিক পথের আলো দাও, আমাদের প্রতি তোমার অফুরন্ত করুণার— মূল্যায়ন করার ক্ষমতা দাও। আমাদের অন্তর এমন কোমল শান্ত করো যেন আমারা তোমার মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *