রিমঝিম
উপন্যাসের ধরণ: সমকালীন উপন্যাস
পাণ্ডুলিপির প্রথমাংশ…
২৩শে এপ্রিল। বৃহস্পতিবার।
বৈশাখের তপ্ত দুপুর। ইলেকট্রিসিটি নেই। ভ্যাপসা গরম। এই গরমে ইলেকট্রিসিটি না থাকাটা বিরক্তিকর হওয়ার কথা। অয়নের বিরক্ত লাগছে না। মনে হচ্ছে—এটাই স্বাভাবিক। ইলেকট্রিসিটি আজকাল এমনভাবে আসে যায়, যেন সে নিজের ইচ্ছায় থাকে। অয়নের ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট করার শেষ দিন আজ । ইলেকট্রিসিটি না থাকায় সে কম্পিউটার চালু করতে পারছে না।
বই হাতে বারান্দায় বসে আছে অনিমা। পাতা উল্টাচ্ছে ধীরে ধীরে- আর একটু পরপর বইয়ের গন্ধ শুকে দেখছে, মনে হচ্ছে যেনো পড়ছে। আসলে পড়ছে না । আজ তার পড়তে ইচ্ছে করছে না। কেন ইচ্ছে করছে না সে নিজেও জানে না।
অনিমা অয়নের ছোট বোন। পড়তে ইচ্ছে না করলে সে এমন অদ্ভুত আচরন করে। পাতা উল্টায় আর বইয়ের গন্ধ শুঁকে দেখে।
কী অদ্ভুত!
মুনহা দৌড় দিয়ে রুমে এলো, অনিমাকে দেখে ভেঙচি কেটে আবার অন্য দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
ভুমিকা
আমি এর আগে কখনো উপন্যাস লিখিনি। খুব দারুণ লিখতে পারি, তেমন দাবি করছি না। সত্যি বলতে, একটা পুরো উপন্যাস সাজানোর জটিল বুননশৈলী আমার পুরোপুরি জানা নেই। তবে কিছু চরিত্র ও গল্প মাথায় জেদ ধরে বসেছিল, তাই কলম ধরা।
এই উপন্যাসটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। চরিত্রগুলো তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে এখনও হাঁটছে; সময়ের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে গল্পের আবহ ও রূপ। একজন নবিশ লেখকের জন্য সবচেয়ে সাহসী ও জটিল সিদ্ধান্ত হলো, গল্প সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা পাঠকদের সামনে উন্মোচন করা। যেহেতু এটি আমার প্রথম উপন্যাস, তাই এই সিদ্ধান্তটি আমার জন্য একই সঙ্গে প্রবল উৎকণ্ঠার এবং ভীষণ আনন্দের।
– মুকিত হোসাইন

