মুকিত হোসাইন

মুকিত হোসাইন

এই পৌষের অন্ধকারে

এমন হিম’ঝরা দিনে— কারো কারো হৃদয়’কোণে শিশির জমে। মন খারাপে অতল শোকের বৃষ্টি ঝরে। চারপাশে কুহেলিকা— আর নিঃশব্দে নিকষ কালো মেঘ নামে। কোথাও কোনো অনাবিল উল্লাস নেই, আর্তনাদ, আড়ম্বরও নেই। কী দারুণ! নিস্তব্ধতায় ডুবে যায় দিন, ফুরিয়ে যায় অজস্র সময়,…

অভিযোগ

আমার কাছে আপনাদের যতো অভিযোগ, লিখে পাঠান রঙহীন ডাকবাক্সে। আমি সযত্নে তা পড়বো। যতো কালির কণিকা। যতো বিষণ্ণতার গল্প। জমানো ক্ষত। অভিমানের তীর। সবগুলি পাঠান। এই যে’ আমায় পথ চলতে হয়। চলার পথে। চায়ের কাপে। হঠাৎ দেখায় অভিবাদনে। অজস্র ভুল…

কবি

কবির জীবনে দুঃখ এক অনন্ত সঙ্গী, কবিতা’রা বিষণ্ণতার সাক্ষী। শব্দেরা মায়াজাল। জমানো গল্পগুলো নিঃসঙ্গতার অতল ছায়া। কখনো কখনো কবি’রা— শরতের কাশফুলের কোমল ছোঁয়া আর বাতাসের মৃদু দোল। এমন স্নিগ্ধতার জন্য উপেক্ষা করেন দীর্ঘ একটা বছর। অথচ, আমার অপেক্ষায় বছর শেষে…

প্রত্যাখ্যান অতঃপর আলোর পথে প্রত্যাবর্তন

আমার ডাকে যখন কেউ সাড়া দেয় না, আমি কেমন যেন হয়ে যাই। ঘুম আসে না, খেতে মন চায় না, উদাসীন বিহ্বল হয়ে বসে একলা আকাশ দেখি। কাউকে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়েও যখন সে উপেক্ষা করে, অন্য কারো প্রতি বেশি গুরুত্ব…

প্রণয়

প্রণয়ের অভিধানে লেখা থাকে না, সামান্য মাত্র অভিযোগ, একটু কথার এলোমেলো’তে থাকে না অসমর অনর্থক অভিমান। তবুও— মন ভার করে বসে থাকা, নীল আকাশ দেখা, এত্ত কিছুর পরও যেন— ভালোবাসা— এক অভিভূত বিস্ময়! আমি হন্নে হয়ে অভিধান খুঁজে খুঁজে, কোত্থাও…

দূরত্বের দেয়াল

অবশেষে, তোমার সাথে’ই— যেতে চাইলাম, তুমি অপেক্ষা করলে না, ঘাম’ঝরানো যাত্রার পর শুনি— তুমি চলে গেলে— আর থামলে না; এইতো— সামান্য’র পথ ছিলো, ছিলো সামান্যে’র ব্যবধান; অথচ— দূরত্বের দেয়াল এঁকে দিলে তুমি, ক্রোশ সহস্র মাইলের পথ! আমি তবুও সে কণ্টকাকীর্ণ…

প্রার্থনা

dua

একটি ছোট্ট প্রার্থনা আমার— আরশের অধিপতি; তোমার কাছে আরজী, যে আমার ভালো দেখে হিংসে করে প্রচুর, হে প্রভু তুমি তা’কে অধম হিংস্র করো না কভু। আলো’য় আলোকিত করো আলয় তার, আধারে ডুবে যেতে দিয়ো’না— ওর হৃদয় আর। আলো’য় আলোকিত করো…

কৃতজ্ঞতা

আমি বরং সব ভুলে যাই- পাপড়ি পাতার রঙ ভুলে যাই- কলম্বাসের দেশ ভুলে যাই- তবুও পথে এগিয়েছে, বিপদে যারা- তাদের — যেন কভু ভুলে না যাই। আধার অমানিশায়, কালে অকালে- প্রবল ঝড়ের, অঝর স্রোতে- – ঠাঁই নাই! অতপর, ঠাঁই দিলো…

বেমানান

আমি কিছুটা ভুলে’র ঘুণে ধরা বই, অসামান্যের গা ঘেসে থাকা অতি সামান্যই! আমি কিছুটা রঙ’বেরঙের টেউ— পাল’হাকা মাঝির বৈইঠা লগির কেউ। আমি কিছুটা অন্যমনা— কিছু’টা বেমানান, অগোছালো সুতোয় বোনা তাঁতির কারুকার্য। আমি অথই জলের ঐ ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, কারো ঘুম…

বেলা অবেলার বর্ষা

তুমি এলে এই অ’বেলার শরতে কী’ জানি কোথা’কার বৃষ্টি, আষাঢ় শেষে তুমি যে শরতেও আসবে— কখনো ভাবি নি আমি। হঠাৎ কালো মেঘে এলে তুমি— শীতল আভায় ভরে গেলো শহরতলি। এই প্রথম, শরতের রিমঝিম বৃষ্টির ফোটা; আমার হৃদয়ে বাজলো, কারনে অকারনে…